সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

হাওরে পরিযায়ী পাখির দেখা নেই

  • আপলোড সময় : ২৪-০১-২০২৬ ০৯:০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-০১-২০২৬ ০৯:০৮:২৮ পূর্বাহ্ন
হাওরে পরিযায়ী পাখির দেখা নেই
মো. সাজ্জাদ হোসেন শাহ ::
নলখাগড়া, চাইল্যা বন, হিজল-করচসহ নানা প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ, মাছ ও পরিযায়ী পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে খ্যাত বিশ্ব রামসার হেরিটেজ সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি হিসেবে পরিচিত তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার আংশিক এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই হাওরে শীত এলেও এবার দেখা মিলছে না পরিযায়ী পাখির। সরেজমিনে ঘুরে ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, প্রতি বছর শীত মৌসুমের শুরুতেই ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির আগমনে মুখরিত হয়ে উঠত টাঙ্গুয়ার হাওর। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে আশানুরূপভাবে পরিযায়ী পাখির দেখা মিলছে না। এবছর শীত মৌসুমেও পাখির উপস্থিতি একেবারেই নগণ্য। ফলে পাখির কলরবে মুখরিত হওয়ার পরিবর্তে নীরব ও ফাঁকা পড়ে আছে হাওরপাড়। সচেতন ব্যক্তিদের মতে, অতীতে নির্বিচারে পাখি শিকারই পরিযায়ী পাখি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। যদিও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত দুই বছর ধরে পাখি শিকার অনেকাংশেই বন্ধ হয়েছে। সুনামগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর টাঙ্গুয়ার হাওর সংরক্ষণ ও পর্যটন শিল্পের বিকাশে বিশেষ নজর দেন। তাঁর নির্দেশনায় উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও কারাদ- প্রদান করা হয়। ফলে বর্তমানে টাঙ্গুয়ার হাওরে পাখি শিকার নেই বললেই চলে। স্থানীয়রা আরও জানান, কয়েক বছর আগেও তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও জেলা সদরে প্রকাশ্যে ও গোপনে পরিযায়ী পাখি বিক্রি হতো। বর্তমানে সে দৃশ্য আর চোখে পড়ে না। একসময় দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আবাসন সংকট থাকা সত্ত্বেও দেশ-বিদেশের জীববৈচিত্র্যপ্রেমী পর্যটকরা টাঙ্গুয়ার হাওরে পাখি দেখতে আসতেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিদেশি পর্যটক তো দূরের কথা, দেশীয় পর্যটকের উপস্থিতিও খুবই সীমিত। উল্লেখ্য, প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত টাঙ্গুয়ার হাওর। প্রতিবছর শীতপ্রধান দেশ সাইবেরিয়া, চীন, মঙ্গোলিয়া, নেপালসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তুষারপাত ও শৈত্যপ্রবাহ এড়াতে পরিযায়ী পাখিরা এখানে আশ্রয় নিত। খাবারে সমৃদ্ধ এই হাওর তাদের দীর্ঘ উড়াল শেষে নতুন প্রাণশক্তি জোগাত। বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর প্রায় ১০ হাজার প্রজাতির পাখির মধ্যে ১ হাজার ৮৫৫ প্রজাতি পরিযায়ী। একসময় টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রায় ২১৯ প্রজাতির পাখির উপস্থিতি ছিল। এর মধ্যে ৯৮ প্রজাতি পরিযায়ী, ১২১ প্রজাতি দেশি ও ২২ প্রজাতির হাঁসজাতীয় পাখি। উল্লেখযোগ্য প্রজাতির মধ্যে ছিল বিরল প্যালাসেস ফিশিং ঈগল, মৌলভী হাঁস, পিয়ারী, কাইম, রামকুড়া, মাথারাঙ্গা, বালিহাঁস, লেঞ্জা, চোখাচোখি ও বেগুনি কালেম। বর্তমানে এসব পাখির উপস্থিতি নেই বললেই চলে বলে জানান টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের বাসিন্দা ও উন্নয়নকর্মী খসরুল আলম। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী আহমদ কবির জানান, গত দুই বছর ধরে শীত মৌসুমে টাঙ্গুয়ার হাওরে বিদেশি পর্যটকের আগমন একেবারেই বন্ধ। দেশীয় পর্যটকের সংখ্যাও নগণ্য। তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি ও স্থানীয় বাসিন্দা হাজি খসরুল আলম বলেন, ৪-৫ বছর আগে এক শ্রেণির অসাধু পাখি শিকারি ও ব্যবসায়ীর কারণে হাওরে পাখির সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যায়। একই সঙ্গে হাওরের হিজল-করচ, নলখাগড়া ও চাইল্যা বনও প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবে ইতিবাচক দিক হলো- গত বছর থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরের কোর ও বাফার জোনে সব ধরনের ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন। এই নজরদারি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আবার পাখির আগমন বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানান, হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণে সরকার বিশেষ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এই নীতিমালা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পর্যটন শিল্প বিকাশে সর্বোচ্চ নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স